মঙ্গলবার, জুন ২৮, ২০২২
The Report
অবশেষে দেশ ছাড়লেন শহরবানু
অবশেষে দেশ ছাড়লেন শহরবানু

অবশেষে দেশ ছাড়লেন শহরবানু

টিএনএন ডেস্ক
প্রকাশের সময় : August 24, 2021 | বিনোদন

শহরবানুকে নিয়ে উদ্বেগেই ছিলেন তাঁর বন্ধুরা। সবার একটাই ভাবনা, জীবন নিয়ে কি পালাতে পারবেন তো! আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য বেশ কয়েকবার কাবুল হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। বারবার বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। সেই সোমবার থেকে একদিকে হাজার হাজার লোক আফগানিস্তান ছাড়তে মার্কিন বিমানে ওঠার জন্য চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে শহরবানু না পাচ্ছিলেন ফ্লাইটের কোনো তথ্য, না অনুমতি। ঘর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত তালেবান চেকপয়েন্ট আর চেকপয়েন্ট!

অবশেষে দেশ ছেড়ে পালাতে পেরেছেন আফগান চলচ্চিত্রকার শহরবানু সাদাত। ২০১৬ সালে কান চলচ্চিত্র উৎসবে ডিরেক্টরস ফোর্টনাইট পেয়েছিল শহরবানু পরিচারিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ ছবি ‘উলফ্ অ্যান্ড শিপ’। তিন বছর পর ছবিটির পরের পর্ব ‘দ্য অরফানেজ’–এর জন্য আবারও প্রশংসিত হন তিনি।

 

 

গতকাল সোমবার তাঁর প্রযোজক ক্যাটজা অ্যাডোমিট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অবশেষে শহরবানু দেশ ছাড়তে পেরেছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ‘বিমানবন্দরের ভিড় ও তালেবান চেকপোস্ট এড়িয়ে ফরাসি সরকারের সহায়তা ও বিশ্বের মানুষের সহযোগিতায় পরিবারের ৯ সদস্য নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়েছেন শহরবানু সাদাত।’ সেখানে আরও বলা হয়েছে, আপাতত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আবুধাবিতে রয়েছেন। শিগগিরই ইউরোপগামী বিমানে উঠবেন।

 

দেশত্যাগ যেকোনো মানুষের জন্যই বেদনাদায়ক। সৃজনশীল মানুষদের জন্য সেই বেদনা হয়তো কিছুটা বেশি। ২০১৯ সালে কানে সমুদ্রপাড়ে বসে এক সাক্ষাৎকারে শহরবানু বলছিলেন, ‘তালেবান যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে সব নারীকে তারা ঘরে ঢুকিয়ে দেবে। অথচ ক্ষমতার লোভে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের চেষ্টা করে যাচ্ছে।’ তালেবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থান দখলের পর হলিউড রিপোর্টারকে এক সাক্ষাৎকারে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন শহরবানু। এই নির্মাতা বলেছিলেন, ‘এ যাত্রায় যদি বেঁচে যাই, তাহলে এ ঘটনাগুলো নিয়ে সিনেমা বানাব। আমার সিনেমা আমূল বদলে যাবে। নিজেকে আমার বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বাঁচতে পারলে যা দেখছি, সেগুলো সিনেমার মাধ্যমে পৃথিবীকে জানাতে পারব।’

 

আফগানিস্তানের আরেক চলচ্চিত্রকার সাহারা কারিমিও দেশ ছেড়েছেন। তিনি স্লোভাকিয়া, তুরস্ক ও ইউক্রেন সরকারের সাহায্যে গত মঙ্গলবার রাতে পরিবার নিয়ে কাবুল ছেড়েছেন। তিনি ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নিরাপদে রয়েছেন।